মানুষ মানষের জন্য খাদ্যনালিতে টিউমার আক্রান্ত রাজু দাস বাঁচতে চায়

সাইদুজ্জামান রিপন

স্টাফ রিপোর্টার , রংপুর

29 August, 2019 -> 4:20 am.

রাজু দাস(৪৫)। ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তিনি ফুটপাতের একজন জুতা ব্যবসায়ী। ঘরে মা ও স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে চার কন্যা। জুতা বিক্রি করে যে আয় হত তা’ দিয়ে কোনরকমে সংসার চালাতেন। তার প্রবল আগ্রহ ছিল মেয়েদের মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। একারণে তার প্রথম মেয়ে জ্যোতি দাস বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজে এইচএসসিতে পড়ছে। দ্বিতীয় মেয়ে রতি দাস চাঁদকুঠির ডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে, তৃতীয় মেয়ে রীতিমা দাস স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ছে। সবার ছোট মেয়ের বয়স সাড়ে চার বছর হলেও সে এখনো স্কুলে যাতায়াত শুরু করেনি। কিন্তু সবকিছুই যেন ল-ভ- হতে চলেছে। কারণ দু’বছর আগে তার খাদ্যনালিতে টিউমার ধরা পড়ে। একারণে বাবার রেখে যাওয়া ১২শতক জমি তিনিসহ অন্য ভাইয়েরা মিলে বিক্রি করে সেই অর্থে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর সেন্ট জর্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। সেখানকার অনকোলজিস্ট বিভাগের চিকিৎসক ডা. গণেশা, ডা. সঞ্জীব এম বার্গিজ, ডা. বিজয়ামূর্তী ও ডা. লি-া ফিলিপস- এর সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার গলা অপারেশনের জন্য মত দেন। কিন্তু অর্থ না থাকায় তিনি সেসময় অপারেশন করতে ব্যর্থ হন। একারণে চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে তিনমাস পর সেখানে গিয়ে অপারেশন করতে বলেন। ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ খেয়ে রাজু দাস কিছুটা সুস্থ বোধ করেন এবং সংসারের প্রয়োজনে আবারো জুতার ব্যবসা শুরু করেন। তবে তার মাথায় অপারেশনের চিন্তা থাকলেও অর্থাভাবে তিনি আর ভারতে যেতে পারেননি। এ অবস্থায় তিনি আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু এবার ওই রোগের পাশাপাশি অ্যাজমা যোগ দিলে তিনি পুরোপুরি কাহিল হয়ে পড়েন। তার আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় এলাকার লোকজন চাাঁদা তুলে তাকে প্রথমে রংপুরের বক্ষব্যধি হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. স্বপন কুমার নাথের কাছে নিয়ে যান। অবশ্য তার আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর তাকে ৫০হাজার টাকা অর্থ সাহায্য প্রদান করে। এলাকাবাসি ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আর্থিক সাহায্যে সেখানে চিকিৎসা অব্যাহত থাকলেও তার অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। বরং দিন দিন অবনতি হতে থাকে। এ অবস্থায় ডা. স্বপন কুমার নাথ জানান- তাকে সুস্থ হতে হলে ছয়টা থেরাপি নিতে হবে। এজন্য প্রত্যেক থেরাপির জন্য তিনি বিশ হাজার টাকা করে নেবেন। অসহায় রাজু দাসের পক্ষে সে অর্থ জোগাড় করা আজো সম্ভব হয়নি। ফলে তিনি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন- এমনই কথা জানিয়েছেন তার মা মালতী রাণী দাস। তিনি বলেন, ২০হাজার টাকা শুধু ডাক্তারই নেবেন অন্যান্য ওষুধ পথ্য তো রয়েছেই। তিনি বলেন, ভাইদের অবস্থাও ভাল নয়। তবুও তারা চেষ্টা করছেন মেয়েগুলোর লেখাপড়া যেন অব্যাহত থাকে। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ছোট মেয়েটার কয়েকদিন ধরে জ¦র। অর্থভাবে ওই ছোট্ট শিশুটিরও চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বলেন, বাপের নামে আড়াই শতক জমির উপরে বাড়ি। বড়ভাইয়ের দুর্দশা দেখে ছোটভাইয়েরা অন্য জায়গায় বাস করছেন। তারা নিজেদের কষ্টে উপার্জিত অর্থ ভাইয়ের জন্য খরচ করছেন। কিন্তু এতেও তারা ভাইকে বাাঁচাতে পারবে বলে মনে হয়না। কারণ অনেক অর্থের প্রয়োজন। যা’ তাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। স্ত্রী রাণী দাস চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ভাই! বলার মত কিছু নেই। অর্থভাবে ছোট্ট শিশুর জ¦রের চিকিৎসা করাতে পারছিনা। মা হিসেবে এদৃশ্য দেখার চেয়ে মরে যাওয়াই উত্তম। এসময় কথা হয় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীর সাথে। তিনি বলেন, এলাকাবাসী নানাভাবে রাজু দাসকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু সেটাতে প্রয়োজন মিটছেনা। একারণে দেশের সকল বিত্তবানদের অনুরোধ করব অন্ততঃ তার সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে রাজু দাসের চিকিৎসায় সবাই এগিয়ে আসবেন।##