সস্তা আবেগে সংকটে দেশঃ

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিশেষ বুলেটিন

27 August, 2019 -> 8:11 am.

রোহিঙ্গারা যখন দেশে আসে তখন অল্প কিছু মানুষ তার বিরোধীতা করেছিলো কিন্তু সস্তা আবেগের স্রোতে তা ভাসিয়ে গেছে!মাথা মোটা মানুষরা এটাকে মানবিকতার ঢাল বানিয়ে মহান হতে চেয়েছে,সে সময় সরকার সঠিক পথে থাকলেও জনমত বাধ্য করেছে সরকারের পজিশন বদলাতে। আমরা যদি সে সময়ের দৃশ্যে কি ভাবে দেশ খাদে পড়েছে তা দেখি তা হলে আমাদের কিছু সংগঠনের সে সময়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে যেমন হেফাজতঃ৫ই মের পর এদেশের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর হয় হেফাজতে ইসলাম,রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব চেয়ে বেশী সরব হয় তারাই,০২/১০/১৬ তারিখে সীমানা খুলে দিবার আল্টিমেটাম দেয় তারা,তা না হলে কক্সবাজারে মহাসমাবেশের ঘোষনা দেন।২৫শে নভেম্বর বায়তুল মোকারমের উত্তর গেটে হেফাজত ঢাকা মহনগর শাখার সেক্রেটারী আবুল হাসনাত আমিনি বলেন"মুসলমানদের জন্য সীমানা খুলে দিতে হবে,যদি টাকা না থাকে তবে এর দায়িত্ব হেফাজত বহন করবে। আল্লামা নুর কাশেমী "রোহিঙ্গা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সীমানা খুলে দিবার আহবান জানান। চরমোনাইঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা দেশে মানুষের মগজকে ধোলাই করে চরমোনাই পীর ও তার মুরিদানেরা,এই ইস্যুতে তারা মোটামুটি সারাদেশ কালেকশন শুরু করে এবং সেই অর্থ নিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে রোডশো শুরু করে,চরমোনাই পীর প্রকাশ্য ঘোষনা দেন মিয়ানমার আক্রমনের!মিয়ানমারের শক্তি সামর্থ্য কি?কোন কোন দেশ তাকে ডিফেন্ড করে,কোন দেশ আমাদের পক্ষে আছে তার কোন ধারনা না থাকলেও সেদিন চরমোনাইপীরের গর্জন দেশে সংকটকে বাড়িয়ে তুলে। জামায়াতঃমিয়ানমারের অকৃতিম বন্ধু চীন আর চীনের সাগরেদ হলো পাকিস্তান,আর পাকিস্তানের পরমাত্মা হলো জামায়াত, তাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেন প্রান ফিরে পায় তৎকালীন রাজনৈতিক কোনঠাসায় যুদ্ধপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামী।জামায়েতের রাজনৈতিক পত্রিকা দৈনিক সংগ্রাম ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে থাকে,১৭ই ডিসেম্বর ২০১৬ সালে মোঃ আমান উল্লাহ ফিচারে লিখেন" এমনিতে আমাদের দেশের সুশীল সমাজ, বামপন্থীগণ এবং মিডিয়া জগতের হর্তাকর্তাগণ মানবতা বিরোধী অপরাধের কথা বলে গলা ফাটিয়ে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদেরকে আদৌ সজাগ ও তৎপর দেখা যাচ্ছে না কেন? কোথায় আজ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ফেরীওয়ালাগণ? বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ মুষ্টিমেয় ইসলামপন্থী দল ব্যতিরেকে ডান বাম কোন দলেরই এ ব্যাপারে কোন সাড়া শব্দ নেই। উপরন্তু সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের দালাল কিছু বুদ্ধিজীবীগণ বলে বেড়াচ্ছেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিলে তাদের সাথে জঙ্গীরা একাকার হয়ে যাবে। তারা সরকারের মধ্যে এক ভীষণ জঙ্গীভীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকীর একটি লেখা থেকে কিছু উল্লেখ করবো। গত ১৩ ডিসেম্বর দৈনিক প্রতিদিনের উপ-সম্পাদকীয়তে তিনি এ প্রসঙ্গে বেশ কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সনে ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। তদুপরি ভারত আমাদের লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। জামায়াত প্রতিনিয়ত ধর্মীয় ইস্যুকে হাতিয়ার বানিয়ে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। বিএনপিঃবিএনপি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতে এবং জনগনের সস্তা অনুভুতি আদায়ের জন্য দেশের ভবিষ্যৎ চিন্তা না করেই রোহিঙ্গাদের পক্ষ অবলম্বন করে। ০৭/০৯/১৭ তারিখে দৈনিক কালেকন্ঠ পত্রিকায় "দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্মমতার শিকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদের পাশে আশ্রয়ের জন্য দিনাতিপাত করছে। তাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং সেখান থেকে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের দাবিতে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। প্রয়োজনে আরো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ’দলটির একজন ভাইস চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠকে জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান না হলে বিএনপির পক্ষ হতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। কেউ কেউ তা কক্সবাজার পর্যন্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এ কর্মসূচি দলের চেয়ারপারসন দেশে ফেরার পর চূড়ান্ত করা হবে। লংমার্চের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি খালেদা জিয়া বেশ কয়েকটি পথসভায় অংশ নিতে পারেন। বাম দলঃদেশের বামপন্থিরা বরাবরই বাস্তববাদী ও দেশপ্রেমের রাজনীতি করলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে,একদিকে মানবতা আরেকদিকে দেশ,পাবলিক সেন্টিমেন্টের আশায় বামরাও সেদিন সরকারের সমালোচনা শুরু করে, ১৪/০৯/১৭ তারিখে সিপিবি,বাসদ ও গনতান্ত্রিক বাম মোর্চার প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে সরকারকে তাদের আশ্রয় দেবার দাবি জানান। ২০শে অক্টোবর মৈত্রী মিলনাতয়নে সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশ ব্যাপী গনস্বাক্ষর নেয়া হয় এবং ২২ অক্টোবর তা জাতিসংঘের বাংলাদেশ অফিসে জমা দেয়া হয়। গনস্বাক্ষরে মোট ০৫ টি দাবি জানানো হয় যার ০১ নম্বরে ছিলো"মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের শরনার্থীর মর্যাদা দিন এবং তাদের থাকা,খাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা সহ সভ্য জীবনযাপনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। সুশীল সমাজঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশের সুশীল সমাজ ব্যাপক সরব হয় বিশেষ করে বিএনপি জামাতপন্থী সুশীলরা,১৯/০৯/১৭ তারিখে রাজধানীর ইন্জিনিয়ার ইস্টটিউশনে national solidarity for the rohingya নামে একটি জাতিয় সংলাপের আয়োজন করা হয়।সে সংলাপে অংশ নিয়ে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহামুদুর রহমান বলেন"রোহিঙ্গারা মুসলমান,আমার ভাই তাদের আশ্রয় দিতেই হবে। আসিফ নজরুল রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেন,মুক্তি যুদ্ধের চেতনা কি শুধুই দেশে? সাংবাদিক শওকত মাহমুদ"সরকারকে চাপে রাখার আহবান জানান। রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ও সাহায্যর জন্য সে সংলাপে একটি অরাজনৈতিক বা নাগরিক কমিটি গঠনের দাবি জানান "অধিকার এর সম্পাদক "আদিলুর রহমান। ব্লগার পিনাকী ভট্রাচার্য "সরকারকে মানবিকতা দেখাতে আহবান জানান। গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ)সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রহীম।তিনি কালক্ষেপন না করে সরকারকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর হুঙ্কার দেন।বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যাপকভাবে রান্না করা খাবার সরবরাহের ওপর জোর দিয়ে এ ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসনাত চৌধুরী,সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, হেফাজতে ইসলামের নেতা শাহ ওয়ালিউল্লাহ হাফেজ্জি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা। এ ভাবে সেদিন দেশের জনমত গঠনের শক্তিগুলো সরকারকে বেকায়দায় ফেউতলে আর সরকারও নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থে দেশের অস্থিত্ব হুমকির মুখে ফেলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমস্ত ফসল নিজেদের ঘরে নিয়ে "মাদার অব হিউম্যানিটি ডিগ্রী অর্জন করে।আজকে ২ বছর পর রোহিঙ্গা যখন দেশের জন্য দৃশ্যমান হুমকি তখন না আছে হেফাজত,চরমোনাই,জামায়াত,বিএনপি,তথাকথিত সুশীলরা!এখন মনে হচ্ছে সব দায় সরকারের ! এখন সরকারের উচিৎ যে কোন মুল্যে মানবতাকে দেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয়া আর যারা তখন অত্যাধিক সরব হয়েছিলো তাদেরকে চিহৃিত করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়া যাতে দেশকে বিপদে ফেলতে আর কেউ যেন অতি উৎসাহী না হয়। লেখক মোঃ শফিকুর রহমান উন্নয়ন কর্মী মোবাইল ঃ০১৭২৩৬৪২২৯০