পবিত্র হজ শেষে সৌদি আরবে আজ ঈদ

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিশেষ বুলেটিন

11 August, 2019 -> 12:14 am.

শনিবারই শেষ হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল আযহা। রোববার ফজরের নামাজের পর থেকেই ঈদ উল আযহার নামাজ আদায় করবেন আরববাসী। এরপর আল্লাহর নামে পশু কোরবানি দেবেন। মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করে হাজিরা ইতোমধ্যে রওনা হয়েছেন মিনার উদ্দেশে। মিনায় শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর মারবেন তারা। এখানেই পশু কোরবানি দিয়ে ঈদ উল আযহা উদযাপন করবেন হাজিরা। সেলাই ছাড়া দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের দরবারে সোমবার নিজেকে সমর্পন করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা বর্ণের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ইহজগতের সকল ইচ্ছা, চাহিদা আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে পাপমুক্তির প্রার্থনা নিয়ে মুসলমানরা তিন দিকে পাহাড় ঘেরা দুই মাইল দৈর্ঘ্য ও দুই মাইল প্রস্থের আরাফাতের প্রান্তরে ছিলেন দিনভর। আরাফাতের এই পবিত্র ময়দানে বিদায় হজে ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেই ইতিহাসকে ধারণ করে প্রতি বছর আরাফাত ময়দানে হাজির হন লাখো মুসল্লি। সেখানে সারাদিনই অবস্থান করেন এবং খুতবা শুনে পরে মোনাজাতে শরিক হন সবাই। হজের আনুষ্ঠানিকতার মূল অনুষঙ্গ, পবিত্র আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে শনিবার খুতবা দেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা বোর্ডের সদস্য এবং খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সের প্রধান শাইখ ড. মোহাম্মদ বিন হাসান আল-শাইখ। জোহরের নামাজের আগে এই খুতবায় আল্লাহর রহমতের প্রতি বারবার গুরুত্ব আরোপ করেন হারামাইন আশ-শরিফাইনের খাদেম সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের এই প্রতিনিধি। ২৮ মিনিটের খুতবা শেষে এ বছর কোনো মোনাজাত করা হয়নি। তবে যে যার মতো করে দোয়া করেছেন যার যার জায়গা থেকে। সে সময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন অনেকে। হজের নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে হাজিরা পৌঁছান পরবর্তী গন্তব্য ৫ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফায়। মুজদালিফার খোলা আকাশের নিচে প্রথম রাত্রি যাপন করেছিলেন প্রথম মানব আদম আলাইহিস সালাম এবং হাওয়া আলাইহা সালাম। আত্মউপলব্ধির এই জায়গায় মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সেখানেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন আল্লাহর এই মেহমানরা। সেখান থেকেই শয়তানকে ছোঁড়ার প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করেন তারা। ভোরে মুজদালিফায় বালি আর পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে শয়তানকে পাথর ছোড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন মিনার দিকে। তিনদিন মিনায় অবস্থান করে শয়তানকে পর্যায়ক্রমে পাথর ছুড়বেন হাজিরা। এরপর পশু কোরবানি করে পালন করবেন পবিত্র ঈদ উল আযহা।