তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৩ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার

সুজন আহম্মেদ

গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি , রংপুর

12 July, 2019 -> 10:24 am.

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষন আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল শুক্রবার বিপদ সীমার ২৩ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত করছে। ডালিয়া ব্রিজের সবগুলো সুইচ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার তিস্তা বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর চর এলাকাসহ নি¤œা ল তলিয়ে গিয়ে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে পুকুর, মৎস খামারে মাছ, বিভিন্ন আবাদী ফসল তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু পাখি ও ছোট শিশু এবং বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারের প্রধান নারী-পুরুষরা। বিশুদ্ধ পানি ও রান্নাকৃত খাবার সমস্যা কারণে অনেকে শুকনো খাবার, আবার কেউ আত্বীয়দের দেওয়া খাবার খাচ্ছে। শুধু এসব সমস্যা নয়, ঘুমানোসহ প্রসাব-পায়খানার সমস্যায় পড়েছে পানিবন্দি মানুষগুলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উঠেছে পানি। পানিবন্দি মানুষগুলো ভেলায় চলাচল করছে। লক্ষীটারী ইউনিয়নের পানিবন্দি এলাকা গত বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। তিনি দ্রুত এসব মানুষকে সহায়তার আস্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ জানান, কোলকোন্দ ইউনিয়নে পশ্চিম চিলাখাল চর, চিলাখালচর, মটুকপুরচর, খলাইরচর, বিনানিবা চর, সাউদপাড়া বাঁধের ধার, উত্তর কোলকোন্দ বাঁধের ধার, কুড়িবিশ্বা বাঁধের ধারসহ নি¤œা লের ১ হাজার ৫’শ পরিবার, মর্নেয়া ইউনিয়নের চরা লসহ নি¤œ এলাকার ১ হাজার পরিবার, লক্ষীটারীর বাঘের হাট, টাউরাশের চর, ইশরকুলচর, কলাগাছি চর ও বাঁধের ৮’শ পরিবার, নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, বাঘডোহরা চর ৭ ও ৮ নং ওর্য়াড, বৈরাতি বাঁধের ধারের ৫’শ পরিবার, আলমবিদিতরের হাজীপাড়া, ব্যাংকপাড়া ও বাঁধের ধারের ৩’শ পরিবার, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের ধামুর, বোল্লার পাড় ও গান্নার পাড় বাঁধের ধারের ৪’শ পরিবার এবং গজঘন্টা ইউনিয়নের চরা লসহ নি¤œা লের ৫’শ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস.ও আমিনুর রহমান জানান, গতকাল সকালে তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত। পশ্চিম চিলাখাল চরের জয়নাল জানান, গত দুদিন বাড়িতে পানি উঠলেও তা কম ছিল, আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে বাড়িতে পানি বাড়ে। ফলে আমরা পরিবারের লোকজন খুব সমস্যায় রয়েছে গত ৩ দিন ধরে। কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু বলেন, তার ইউনিয়নের দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের মাঝে দ্রুত বিশুদ্ধ ট্যাবলেট ও ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি ৮’শ ৫০ জনের মাঝে চিড়া, মুড়ি, গুড়, দেশলাই, মোমবাত গতকাল শুক্রবার বিতরণ করা হয়েছে।