তৃণমূলকে জবাবদিহি করতে হবে মন্ত্রী-এমপিদের

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিশেষ বুলেটিন

30 June, 2019 -> 2:00 am.

তৃণমূলকে যেন মন্ত্রী-এমপিরা অবজ্ঞা অবহেলা না করে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ৫ টি অনুশাসন জারি করছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, জাতির পিতার জন্মশতবর্ষের বছরে তৃনমূলের ক্ষমতায়ন চান প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি। এলক্ষ্যেই তৃনমূল যেন মর্যাদা পায়, তৃনমূলকে যেন গুরুত্ব দেওয়া হয় সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সেসব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আগামী ২৪ জুন তৃনমূলের দুজন করে প্রবীণ নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু এই সংবর্ধনাই না, সরকারের কর্মকাণ্ডে তৃনমূল যেন সম্পৃক্ত হয় এবং সরকার থেকে যেন জনবিচ্ছিন্ন না হয়ে পরে। সেজন্য তৃনমূল যেন সক্রিয় থাকে সেজন্য মন্ত্রী এবং এমপিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫ টি অনুশাসন জারি করছেন বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলাে নিশ্চিত করেছে। এই অনুশাসনের মধ্যে রয়েছে; ১. মন্ত্রীদের দলীয় কার্যালয় বা বাসভবনে সপ্তাহে অন্তত একদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাক্ষাৎ করতে হবে। সেখানে নেতা-কর্মীদের অভাব অভিযােগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। যার মন্ত্রী নন, এমপি। তাদের এমপি হােস্টেলে সপ্তাহে একদিন যেকোন সময় এলাকার তৃনমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাদের সমস্যাগুলাে শুনতে হবে এবং সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ২. মন্ত্রীদের এলাকায় যেতে হবে মাসে অন্তত দুবার। এ সফরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ; যেমন জেলা আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দর সঙ্গে কথা বলতে হবে। এলাকার সমস্যা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হতে হবে। এমপিদেরও মাসে অন্তত দুবার গিয়ে সমস্যাগুলাে জানতে হবে ও সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। ৩. মন্ত্রীরা যদি অন্য জেলা সফরে যান সেই জেলায় স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে এবং এলাকার আওয়ামী লীগ নেতৃবন্দর সঙ্গে সাক্ষাত করতে হবে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। ৪. তৃনমূলের কোন যৌক্তিক দাবি যেমন; রাস্তা, মসজিদ, মন্দির, মাঠ, ফুল সংস্কার কিংবা ডাক্তার , অ্যাম্বুলেন্সে ঠিকঠাকমতাে আছে কিনা সেসব দাবি মেটানাের চেষ্টা করতে হবে। এই দাবি মেটানাের কতটা অগ্রগতি হলাে সেটাও জানাতে হবে। ৫. উন্নয়ন বরাদ্দ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির যেমন; বিধবা বা বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযােদ্ধা ভাতা, ইত্যাদির তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তৃনমূল আওয়ামী লীগকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের পরামর্শ নিতে হবে এবং তাদের সঙ্গে কাজ করে চুড়ান্ত তালিকা তৈরী করতে হবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ এখন যে উদ্যোগ নিয়েছে, গৃহহীনদের জন্য বাড়ি, তার জন্য তৃনমূল আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে তালিকা তৈরী করতে হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলাে বলছে যে, এই অনুশাসনগুলাে জারি হলে এবং কার্যকর হলে তৃণমূলদের কাছে মন্ত্রীএমপিদের জবাবদিহীতার পরিবেশ তৈরী হবে। এর ফলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।