কৃষকের ঈদ বনাম ধানের মূল্য-অজেয় সুজন

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , সারা বাংলা

26 May, 2019 -> 4:45 am.

আমরা দুর্বল নিরীহ বাঙ্গালী, শ্রুতি মধুর না হলেও জীবনের ভার বহন করার জন্য কৃষিকাজ করি, চাষা বলে নিম্ন শ্রেণীর মানুষ হয়ে উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা তাগিদে রোদে পুড়ে বলদের মত আবাদ করি। সমাজের জীর্ণ মানুষের কাতারে থেকেও নতুন ফসলের জন্য কৃষকের সকল কার্য। কিন্তু এ বছর মুক্ত বাজার অর্থনীতি নাকি মধ্যসত্ত্ব ফাপর বাজি অর্থনীতি, নাকি বিরস বাজারনীতি নাকি, নিরব দুর্ভিক্ষনীতি কারণে ব্যাপক ফসল উৎপাদন পরেও কৃষক আজ হাসতে পারছে না। কৃষি নির্ভর অর্থ ব্যবস্থায় প্রধান অর্থকারী ফসল ধানের দাম উৎপাদন খরচেরও কম তা ভাবা যায়? শুধু শুধু কিছু লোক দেখানো সরকারি ধান ক্রয় কি কৃষকের ঘামের মর্যাদা দিতে পারবে, নাকি আমরা শুধু শুধু ‘শোক সভার’ সভ্য হয়ে কৃষকের মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকবো? কৃষিমন্ত্রী অর্থনীতির মানুষ কিনা জানি না, তবে অর্থনীতিবিদরা অধিকতর স্বার্থপর। এর প্রকৃতি উদাহরণ হলো ধানের মূল্যের উৎপাদন খরচের চেয়ে আজ বাজার মূল্য কম। সমিক্ষা বলছে শুধু মধ্যস্বত্ত্ব দালালি না থাকলে যে মূল্যে আমরা চাল ক্রয় করি সেই অর্থে ধানের বাজার মূল্য দ্বিগুণ হওয়ার কথা। সকল রাজনীতিবিদ, আমলা, পেশাজীবী ও মহাজনী শ্রেণীর মানুষ আজ নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। আমার সীমাবদ্ধ জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে সরকারি দলের রাজনৈতিক নেতাদের মনুস্বত্ব ও সদইচ্ছা থাকলে তৃণমূল থেকে সকল স্তরে মধ্যস্বত্বভূগী অপরাধীরা আজ সমাজ থেকে পালাতে বাধ্য হবে। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সরকারের অদৃশ্য হাত আজ দৃশ্যমান হতেই হবে, তা না হলে কৃষকের ধানের মূল্য নিয়ে যে ঠাট্টা তামাশা চলছে তা সকলের চোখে সন্দেহজনক হয়ে উঠবে। দারিদ্রতা দূরীকরণে সরকারের সকল কর্মই আজ কৃষকের হাসির সাথে মলিন হতে চলেছে। যেখানে শুধু শুধু জনগণকে উন্নয়নের অর্থনীতি বা রাজনীতি বোঝানো বা খাওয়ানো যাবে না। সরকারি কি কৃষি অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য বড় আকারে কৃষকের কাছে সরাসরি ব্যাপক আকারে ধান ক্রয় করতে পারে না। বাংলাদেশে আর্থ সামাজিক অর্থনীতি জাতীয় ক্রয় ক্ষমতা যে সক্ষমতা তা দিয়ে কেন সরকার অধিকাংশ কৃষকের ধান ক্রয় করছে না, যা পরবর্তীতে চাল আকারে বাজারে সরবরাহ করে বাজার ব্যবস্থার অরাজকতা দূর করা সরকারের দূরদৃষ্টিতার পরিচায়ক হবে। কৃষকের চোখের জলের মূল্য আমাদের দিতেই হবে, এই কথা যেমন সত্যি, তেমনি অধিকাংশ গ্রাম নির্ভর অর্থনীতিতে শুধু আত্মতুষ্টির উন্নয়নে দরিদ্র হতভাগা কৃষক কেন আনন্দে ঈদ করতে পারবে না, তাও মেনে নেওয়া যায় না। উর্বর মস্তিষ্ক ও আদর্শহীন নেতা কেন্দ্রীক উন্নয়নের রাজনীতি দিয়ে বাজার অর্থনীতি আজ যেমন লাগামহীন তেমনি দালালের চক্রে পরে আজ ধানের মূল্যের কারণে কৃষকের সাথে সাথে আমাদের বুকেও হাহাকার। যা শুধু “রাজধানীতে” থেকে বোঝা যায় না, তেমনি দু বেলা দু মুঠো ভাত খেয়ে সম্মানের সাথে সমাজে কৃষিজীবী মানুষের বেঁচে থাকাকে যারা আজ কঠিন করে ফেলেছে তাদেরও ইতিহাস ক্ষমা করবে না। যে কৃষক হালাল ও হারামের পার্থক্য করে সমাজের সকল ক্ষেত্রে সকল অবস্থায় “হক কথা” বলে ন্যায়ের সাথে চলে ফসল উৎপাদন করে আজ নিবৃতে কাঁদবে তা হতে পারে না, তাদের ধানের মূল্য অবশ্যই সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। যেকোন মূল্যে সরকারকে ব্যাপক হারে ধান সংগ্রহ করতেই হবে, সেই ক্ষেত্রে একটি বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করে হলে একনেকে সরকারি ধান ক্রয় বৃদ্ধি প্রকল্প হাতে নেওয়ার জোর দাবি জানাই। ধান সংগ্রহের ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে বিভ্রান্তকর লোক দেখানো সরকারি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের যে কর্মকান্ড তা আজ স্বনির্ভর গ্রাম ও অর্থনীতির মুক্তির কথাগুলোকে সকলের কাছে হাস্যকার হয়ে উঠেছে । সরকারি দল আজ যে যেমন বাহিরের আঘাতের চেয়ে ভিতরের ‘কাউয়া’দের আঘাতের ভয়ে আগাছা পরগাছা পরিস্কারের কথা বলছে! তেমনি দেশের কৃষি নির্ভর পরিবারগুলোর কথা বিবেচনা করে টেকসই ও মধ্যস্বত্বহীন বাজার ব্যবস্থা ও ন্যায় ভিত্তিক অর্থনীতিক অবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ধানের মান বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ সহনশীল রাখতে এই ন্যায় ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য অধিক কৃষক বান্ধব কর্মসূচি হাতে নিতেই হবে। এখন যে কোন উপায়ে সরকারি নেতা ও আমলাদের বিদ্রুপপূর্ণ কথা বন্ধ করে ধানের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে হবে, তা নাহলে বাঙালী সিদ্ধান্ত নিতে কখনও ভুল করে না।