ব্রেকিং নিউজ-
তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ......এরশাদুল হক রাজু ** বেরোবিতে কর্মচারীদের উপর সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলাঃআহত দশ ** ভেজাল খাদ্য বর্জনে ফিরেদেখা’র দেশিয় জাতের ফল খাওয়া উৎসব** সৈয়দপুরে ভেজাল পণ্য বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় ডায়েরী** রংপুরে অপরিণত শিশুর জন্ম প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচী পরিদর্শন** সকলের সহযোগিতায় পরিকল্পিত রংপুর গড়তে চাই.....ডিসি আসিব আহসান** রংপুরে বজ্রপাতে শিশুর মৃত্যু ** গঙ্গাচড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পথ চলার কৌশল শিখিয়ে দিলেন-সুমন** গঙ্গাচড়ায় অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ** রাণীশংকৈলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি সভা অনুষ্ঠিত**

দেশের উত্তরের মানুষের মহামিলনে জমে উঠে বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা!

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিশেষ বুলেটিন

5 April, 2019 -> 8:47 am.

স্বাধীন একটি দেশ “যার নাম বাংলাদেশ” । এদেশের মানুষ সামাজিক ভাবেই সংস্কৃতি প্রিয়। বাংলার রুপ, রস ও লোক সমাজ সংস্কৃতির রেখায় বেশ দৃষ্টি রাখে। বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশের উত্তরা লে এই দিবসটি একযোগেই পালন করে। হয়ত সে কারনেই অসাম্প্রদায়ক চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালির সংস্কৃতি জীবনে পহেলা বৈশাখ একটি সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হয়ে দাড়িয়েছে। সে কারনেই জাতি ধর্ম বর্ণ সব মানুষের মহামিলনে জমে উঠে বৈশাখী মেলায়। বাংলার উত্তরের মানুষ এমন একটি দিনকে ঘিরে বিভিন্নরকম ছোট বড় আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নানা সূত্রের আত্মীয় স্বজনেরা মেলা উপলক্ষে বেড়াতে আসেন আত্মীয়দের বাড়িতে। জমে ওঠে আড্ডা ও রুচীশীল নানান খাবারের আয়োজন। এই সময় বিভিন্ন রকম লোকজ মুখরোচক খাবার তৈরীতে ব্যস্তথাকে মেয়েরা। চিড়া, মুড়ি, খই, লাড়–, বাতাসা, ইলিশমাছ, পান্তা ও বিভিন্ন রকম ভর্তা জাতীয় খাবার। এই সকল খাবার পরিবেশন করে বাঙালি জাতির ঐতিহ্যকে অনেকখানি সমৃদ্ধ করে তোলে। যদিও এই ঐতিহ্যপূর্ণ মেলার আয়োজনকে ঘিরেই শিশু ও মেয়েরা নানান রকম সাজে ব্যস্ত থাকে। সর্বত্তরের জেলা হিসেবে রংপুর, দিনাজপুর, প গড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে ঐ বৈশাখী মেলার আয়োজনের ব্যপকতা অনেকবেশি। এই এলাকার মানুষ বেশীর ভাগই কৃষি নির্ভরশীল। যদিও বর্তমানে দেশের ভাল চাকুরী গুলোতে সুনাম কেড়েছে এই উত্তরের সোনার ছেলেমেয়রা। এই এলাকার অনেক মানুষই সহজ সরল ও প্রবৃত্তির। সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পেশা হিসেবে শিক্ষকাকে এই উত্তরের মানুষ বেশির ভাগই কর্মরত রয়েছে। দেশের উত্তরের মানুষগুলো বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব মনে করে। যদিও এই মেলা বাঙালির প্রচিীন ঐতিহ্য। বৈশাখকে কেন্দ্র করে গ্রাম-শহর হয়ে ওঠে নতুন বছরকে বরণের মহা আয়োজন। এই ধরণের মেলায় বেশিই ভাগই পুতুল নাচ,কবি গান,পালাগান, নাগরদোলা আর হৈ চৈ আনন্দ। যদিও গ্রাম থেকে হেটে হেটে শহরে এই মেলা স্থান দখলকরে নিয়েছে। শহরের মানুষরাও ক্লান্ত কাটিয়ে নিজেকেআনন্দ উল্লাসে খানিক সময় ভরিয়ে রাখতে চায়। যদিও দিনে দিনে বৈশাখি মেলার প্রচলন বেড়ে চলছে। আর এই মেলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌছাতে এগিয়ে আসছে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এই মেলার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মৃতি বহন করে যাচ্ছে বাংরাদেশেন ঐতিহ্য তথা উত্তরবঙ্গেরও সহজ সরল মানুষের চিরচেনা সংস্কৃতি। সংস্কৃতিতে জরাজীর্ণ, দীনতা হীনতা ও নচিকতাকে পরিহার করে সুন্দর ও সৌন্দর্যকে লালন করে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রতিবছর জমে ওঠে কয়েকটি বৃহত্তম বৈশাখী মেলার মধ্যে অন্যতম রাণীশংকৈল বৈশাখী মেলা। দেশের সুনামধন্য কবি সাহিত্যিক থেকে শুরু করে দেশের মহান ব্যক্তিদের আগমন দেখে গেছে মাস ব্যাপী বৈশাখী মেলায়। এই মেলাকে ঘিরেই গ্রাম্য মানুষের অর্থাৎ বাঙালির আনন্দ আর্তি, ইচ্ছা আকাঙ্খা, শ্রেয়বোধ ও শুভ বুদ্ধিকে প্রকাশ করে তোলার একটি দেশের উত্তরের জেলার অনবদ্য উৎসব হলো বৈশাখী মেলা। এই মেলার মুল আয়োজক হিসেবে রাণীশংকৈলের সংস্কৃতির, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী মহল ব্যক্তিদের একাতত্বা অভিন্ন। বাঙালির এই মেলা সম্পর্কে জানার অবকাশ নেই। অনেকেই মনে করেন- বৈশাখী মেলা হয় মূলত: বাংলাসনের প্রথম দিনে। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব। এক সময় ঋতু ধর্মী উৎসব হিসেবে পালন হত। কারন কৃষিকাজের সুবিধার্থেই স¤্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের মার্চেই বাংলাসন প্রর্বতন করেন। আর বাংলা নববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত হয় সম্রাট আকবরের সময় থেকেই। সে সময় বাংলার কৃষকেরা জমিদার ও তালুকদারদের খাজনা পরিশোধ করত। আর এই কারনেই তখন মেলা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত। আর পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সাথে মিশে একাকার হয়ে ওঠত পহেলা বৈশাখ। চিরাচিত বাংলার কৃষকের মেলা আজ রুপলাভ করেছে শহর বন্দরেও। এই ঐতিহ্য যেন বাংলার কৃষকের ঘামের ফসলের উৎসব।