ব্রেকিং নিউজ-
নতজানু নীতি পরিহার করে তিস্তা-সহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করুন--------কমরেড খালেকুজ্জামান** রংপুরে দুদিন ব্যাপী ফ্রি ডেন্টাল ক্যাম্প উদ্ভোধন ** রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর ৯০ তম জন্মদিন পালন ** রংপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানব্বন্ধন সমাবেশ ** উলিপুরে ‘দৈনিক ভোরের ডাক’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকা পালিত** রংপুরে সিলেকশন গ্রেড এর দাবিতে মানব বন্ধন ও পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও ** কাদেরের বাইপাস সার্জারি চলছে, দেশবাসীর দোয়া কামনা** রংপুর জেলা রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের বিশেষ সাধারন সভা অনুষ্ঠিত** লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অগ্নিকান্ডে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি** রংপুরে আ.লীগের প্রার্থীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ **

ঠাকুরগাঁওয়ে অত্যাধিক কীটনাশকে রোগাক্রান্ত হচ্ছে কৃষকরা

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , ঠাকুরগাঁও

10 March, 2019 -> 11:16 am.

ঠাকুরগাঁও জেলার ৫টি উপজেলায় ফসলে প্রতিবছর প্রায় ৭ কোটি টাকার কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে কিন্তু তাদের সচেতন করার কোন উদ্যোগ নেই। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে মাঝে মধ্যে কৃষকদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ধান, পাট ও শাক-সবজির চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবজি চাষের জন্য বেশ খ্যাতি রয়েছে। সারাদেশে যে পরিমাণ সবজির আবাদ হয় তার অন্ত ১৫-২০ ভাগ উৎপাদন হয় এ জেলায়। সূত্র মতে, এ জেলায় বছরে ১২ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমিতে ধান, ৬ হাজার ১৭২ হেক্টর জমিতে পাট ও ৬ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এসব ফসল আবাদের সময় ব্যাপক হারে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কহরপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল জাব্বার জানান, তাদের এলাকার ধান চাষের সময় প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২০০ গ্রাম করে তরল কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া সবজি চাষের ক্ষেত্রে প্রতি তিন দিন অন্তর কীটনাশক স্প্রে করা হয়। এতে এক মৌসুমে সবজি ক্ষেতে বিঘা প্রতি তরল কীটনাশকের দরকার হয় গড়ে ২ কেজি। ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতি বছর ফসলের ক্ষেতে অন্তত ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে বেশি কীটনাশক ব্যবহৃত হয় ধান ক্ষেতে। এছাড়া পাট, ফুল, সবজি ও আমের মুকুলেও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এ জেলার মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কারণ প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ শাক-সবজি উৎপন্ন হয় তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফসলি জমিও হারাচ্ছে উর্বরতা। কৃষকদের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা দিন দিন এর প্রতি নিভর্রশীল হয়ে পড়ছেন। অনেক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা জমিতে ইচ্ছামতো কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। কতটুকু জমিতে কী পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত কিংবা ফসল তোলার কতদিন আগে সবজি ক্ষেতে কীটনাশক দেয়া বন্ধ করা দরকার সে ব্যাপারে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোন ধারণা নেই। ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিফতরের কর্মকর্তারা ফসলের জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে কৃষকদের নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা এ ব্যাপারে সচেতন করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের ডা: তোজাম্মেল হক জানান, কীটনাশক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ধরে যদি কেউ খাদ্যের সঙ্গে কীটনাশক মিশ্রি শাকসবজি খায় তাহলে ওই ব্যক্তি প্রথমেই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হবেন। এ জন্য কীটনাশক ব্যবহারের ব্যাপারে নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।