ব্রেকিং নিউজ-

ঠাকুরগাওয়ে পাঁচজনকে কেড়ে নিলো অচেনা রোগ, ছড়াল মৃত্যুভয়

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , ঠাকুরগাঁও

26 February, 2019 -> 12:17 am.

মরিচপাড়া। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর সীমান্তবর্তী গ্রাম। কী এক অচেনা রোগ ভর করেছে সে গ্রামে। হিসাব করলে দিনের ব্যবধান ১৫। আর এ কয়েক দিনেই অচেনা রোগটি কেড়ে নিয়েছে একই পরিবারের পাঁচজনের প্রাণ। অস্বাভাবিক এমন প্রাণসংহারে মৃত্যুভয় যেন নোঙর ফেলেছে গ্রামবাসীর মনে। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ভাইরাসের কারণে এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন এ ঘটনা উদ্ঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা থেকেও বালিয়াডাঙ্গীতে আসছে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। অচেনা রোগের মৃত্যুমিছিলের প্রথম যাত্রী ছিলেন ওই বাড়ির মালিক তাহের আলী (৫০)। দিনটি ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি। সেদিন কী কারণে তিনি মারা গেলেন, কেউ বুঝতেই পারেনি। পরিবারে সেই শোক থিতু না হতেই ঠিক ১২ দিন পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি এক দিনেই না ফেরার দেশে চলে যান তাহের আলীর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৮৫) ও তাঁদের জামাই হাবিবুর রহমান (৩৫)। একই পরিবারের তিন মৃত্যুর ধকল নিতে পারেননি তাহের আলীর দুই ছেলে। তিন দিন পরই গত রবিবার ইউসুফ আলী (২৮) ও মেহেদী হাসান (২৩) অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন চিকিৎসার জন্য তাঁদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রাতে তাঁরা মারা যান। এদিকে ইউসুফ আলীর স্ত্রী কোহিনূর বেগম (২৪) তাঁর ছেলে আবির হোসেন (১৬) অসুস্থ হয়ে বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনাটি বালিয়াডাঙ্গীর ধনতলা ইউনিয়ন ভাণ্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এ কারণে পারিবারিক কবরস্থানের কিছুটা বাইরে ইউসুফ ও মেহেদীর লাশ দাফন করা হয়। এদিকে গতকাল সোমবার ইউসুফ ও মেহেদীর দাফনের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ইউসুফের শ্বশুর ও কাহিনূর বেগমের বাবা রবিউল ইসলাম, তাঁদের আত্মীয় সাবেক ইউপি সদস্য প্রতিবেশী সইদুল হক ও প্রতিবেশী সালমা বেগম। তাঁদের স্থানীয় বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে তাঁদের জন্য আলাদা একটি ইউনিট কাজ করছে, খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। প্রতিবেশী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় রবিবার রাতে ইউসুফ ও মেহেদীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় লোকজন তাতে হাত দেয়নি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাঁদের স্বজনরা এসে গাড়ি থেকে লাশ নামায়। আরেক প্রতিবেশী জসিম উদ্দিন জানান, কিছুদিন আগেও স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল তাহের আলীর পরিবারের লোকজন। পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আবু তাহেরের জামাই হাবিবুর রহমান ছয় বছর দুবাই থাকার পর দেশে ফিরেছেন। দেশের ফেরার পরই এ ভাইরাস আক্রমণ করেছে তাঁর পরিবারে। তবে এটা নাও হতে পারে। অসুস্থ সালমা বেগমের মা জরিমন বেগম জানান, তাহেরের স্ত্রী হোসনে আরা ও জামাতা হাবিবুরের মৃত্যু হলে তাঁদের কাপড় নাড়া ও দাফনের আগে সালমা তাঁদের গোসল করান। তাঁদের লাশ নাড়ার কারণে তাঁর মেয়ে সালমা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে সালমা কোনো কথা বলতে পারছেন না। তাহের আলীর বাবা ফজর আলী জানান, তিনি ওই বাড়ির কিছুটা দূরে বাস করেন। তবে প্রতিদিনই তিনি ছেলে তাহেরের বাসায় যান, খাওয়াদাওয়া করেন। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন তাহের অসুস্থ হয়ে মারা যান। এর কিছুদিন পরই মারা যান তাহেরের স্ত্রী ও জামাতা হাবিবুর। তার তিন দিন পর অসুস্থ হয়ে মারা যায় ইউসুফ ও মেহেদী। কী কারণে এমন ঘটছে তিনি অনুমান করতে পারছেন না। তিনি জানান, বর্তমানে তিনিও মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ বোধ করছেন।